আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের জন্য কারা আবেদন করতে পারবেন? কীভাবে আবেদন করবেন ?

Ayushman Bharat: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই একের পর এক প্রতিশ্রুতি পূরণ করে চলেছে। বাংলায় চালু হয়ে গিয়েছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। যদিও এখনও এই কার্ড নিয়ে মানুষের মনে হাজার প্রশ্ন রয়েছে। এখনও অনেকেই জানেন না ঠিক কারা কারা পাবেন এই কার্ড? কীভাবে আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি করা যাবে এবং কী কী সুবিধা মিলবে, আজকের প্রতিবেদনে সহজ ভাষায় সেই বিষয় নিয়েই বিস্তারিত তথ্য রইল।
আয়ুষ্মান ভারত একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প। এই প্রকল্পের পুরো নাম প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা। রাজধানী দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে স্বাক্ষরিত হওয়ার পরে 'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্পে জুড়ল পশ্চিমবঙ্গ। এই প্রকল্পের অধীনে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেশ চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। একাধিক রোগের করা যাবে চিকিৎসা। বর্তমানে অনলাইন এবং অফলাইন-দুই পদ্ধতিতেই আয়ুষ্মান কার্ডের জন্য আবেদন করা সম্ভব।

কারা পাবেন এই কার্ড?

মুখ্যমন্ত্রী জানান, "আয়ুষ্মান ভারত সকলের জন্য নয়। দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী পরিবার এই সুবিধা পাবেন। এই স্কিমের আওতায় থাকা প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা ব্যয়ে চিকিৎসা পাবেন। পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশের প্রায় ৩৬ হাজার সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়স পর্যন্ত কোনও উপার্জনক্ষম পুরুষ সদস্য নেই এমন মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী যে কোনও ভারতীয় নাগরিক আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পেতে পারেন। এর জন্য কোনও আয়সীমা নেই। এমনকি কারও আগে থেকে স্বাস্থ্যবিমা থাকলেও তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হবেন না।
আরও পড়ুনঃ যুবশক্তির ৩ হাজার টাকা কবে থেকে মিলবে? নতুন কী আপডেট এল জেনে নিন।

কিভাবে আবেদন করবেন?

আয়ুষ্মান কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হলে উপভোক্তাদের সরকারি বেনিফিশিয়ারি পোর্টালে যেতে হবে।আবেদনের ধাপগুলি হল—‘Beneficialy’ অপশনে ক্লিক করুন।রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর ও OTP দিয়ে লগইন করুন।PM-JAY প্রকল্প নির্বাচন করুন।রাজ্য ও জেলা নির্বাচন করুন।নাম অথবা আধার নম্বরের মাধ্যমে নিজের তথ্য খুঁজুন।প্রয়োজনীয় যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করুন।ছবি আপলোড করে আবেদন জমা দিন।যেসব এলাকায় অফলাইন পরিষেবা উপলব্ধ রয়েছে, সেখানে অফলাইনেও আয়ুষ্মান কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে। এখানে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যেমন, আধার কার্ড নম্বর, রেশন নম্বর, আধারের সঙ্গে নম্বর নম্বর, জন্ম তারিখ ও লিঙ্গ এবং সম্পূর্ণ ঠিকানা (আয়ুষ্মান ভারত) দিতে হবে। এছাড়াও প্রধান সংখ্যার সদস্য সংখ্যা, কার্ডের তথ্য (EPIC নম্বর, AC নম্বর, নম্বর নম্বর, নম্বর নম্বর), স্বাস্থ্য সাথি ইউআরএন (URN) নম্বর এবং প্যান কার্ড নম্বর। একইসঙ্গে আবেদনকারীর নাম ২০২৬ ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে কিনা। বাদ গেলে এসআইআর (SIR) ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে কিনা বা সিএএ-তে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন কি না, তাও জানতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্পটি চালু হওয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ পরিবার স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ