সানস্ট্রোক বা হিটস্ট্রোক কাদের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা?

সানস্ট্রোক যেকোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে। বয়স্ক মানুষ এবং ছোট ছোট বাচ্চারা বেশি আক্রান্ত হন তুলনামূলক তরুণদের থেকে। যে সমস্ত মানুষ আনুষাঙ্গিক দীর্ঘদিনের রোগে আক্রান্ত যেমন যাদের ভারী শরীর, হৃদরোগে আক্রান্ত, সুগার রোগী, স্নায়ুরোগে আক্রান্ত, মানসিক রোগী, বিছানায় শয্যাশায়িত, তাঁদের ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিছু কিছু ওষুধ যেগুলো হৃদরোগ, মানসিক রোগ এবং কিডনি সমস্যাজনিত কারণে চিকিৎসকরা দিয়ে থাকেন, সেই সমস্ত ওষুধ কেউ যদি নিয়মিত খেয়ে যান, সেগুলো হিট স্ট্রোকের প্রবণতা আরো বাড়িয়ে তোলে, বিশেষত যে সমস্ত ওষুধ শরীর ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের জন্য শরীর থেকে জল বের করতে সুবিধা করে। এবং মানসিক রোগের ওষুধ যেগুলো শরীরের ঘাম কম করে দেয়।

অনেক সময়, অনেক বাবা মা তাদের বাচ্চাকে রাস্তার ধারে পার্কিং করা গাড়িতে এসি না চালিয়ে রেখে যান, এতে বাচ্চারা প্রচন্ড সমস্যায় পড়তে পারে। এমন অনেক ঘটনার কথা জানা যায় যাতে বাচ্চারা তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তাই এ বিষয়ে সকলকে সাবধান থাকতে হবে।

সানস্ট্রোক বা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা কি কি হতে পারে?

  • বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হসপিটাল ঘটনাস্থল থেকে অনেকটাই দূরে। এই পরিস্থিতিতে সময়ের মূল্য অনেক বেশি। তাই খেয়াল রাখতে হবে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসার আগে প্রাথমিক চিকিৎসাটা যেন ঘটনাস্থলেই হয়।
  • আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য থাকবে রোগী যদি জেগে থাকে এবং জল পান করতে পারে তাহলে তাকে যতটা সম্ভব জল পান করানো।
  • ওআরএস (ORS) যদি থাকে তাহলে সেটা পান করানো।
  • সাথে সাথে তাকে ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে আসা এবং চলন্ত পাখার সামনে রাখা। যদি বাতানুকূল পরিবেশের ব্যবস্থা থাকে তার মধ্যে নিয়ে আসা।
  • শরীর থেকে জামা কাপড় সব সরিয়ে ফেলতে হবে।

সানস্ট্রোক বা হিটস্ট্রোক যাতে না হয় তার জন্য কি কি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?

  • তীব্র গরম এবং আর্দ্রতায় ভারী এবং সময় সাপেক্ষ কাজ করা থেকে বিরত থাকা চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু যদি উপায় না থাকে তাহলে এক টানা কাজ না করে মাঝে বিশ্রাম নিন।
  • পর্যাপ্ত জল পান করুন যাতে আপনার শরীরে জলের ঘাটতি না পড়ে।
  • ভালো পুষ্টিকর খাবার খান।
  • মদ এবং অন্যান্য নেশা থেকে বিরত থাকুন।
  • যে সমস্ত রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে হার্টের রোগ বা মানসিক রোগ বা স্নায়ু রোগের আক্রান্ত এবং তার জন্য ওষুধ খেতে হয় তারা চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিন এবং জেনে নিন কিভাবে এই তীব্র গরমে সুস্থ থাকা যায়।
  • আমাদের অতিরিক্ত যত্নবান হতে হবে বরিষ্ঠ এবং ছোট ছোট শিশুদের প্রতি বেশি বেশি।
  • যাদের ভারী কাজ করা অভ্যাস নেই তারা যেন হঠাৎ করে এই তীব্র গরমে ভারি কাজ দীর্ঘ সময় ধরে না করেন। ধীরে ধীরে নিজেকে অভ্যস্ত করে তুলুন তারপর কাজের সময়কে দীর্ঘায়িত করুন।
  • ঘন ঘন কফি খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।
  • বাড়িতে থাকুন বা বাইরে চলাফেরা করুন বা কাজ করুন সব সময়ই হালকা জামাকাপড় পড়ার চেষ্টা করুন।
  • তীব্র রৌদ্রে না কাজ করে দিনের প্রথমে ভারী কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন।
  • ঠান্ডা জলে সহ্য হলে বারবার স্নান করুন।
  • বাড়িতে বাতানুকুল এর ব্যবস্থা থাকলে তীব্র উষ্ণতায় সেখানে বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত করার চেষ্টা করুন।
আর শেষে বলি, এর আগে যে সমস্ত প্রাথমিক লক্ষণগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি সেগুলো যদি দেখা যায় তাহলে ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নিন। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ