দুর্নীতি ও অস্পষ্ট আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে গ্রেটার চেন্নাই কর্পোরেশনের (GCC) সাতজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়েরের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে। গত সপ্তাহে চেন্নাইয়ের দুটি জোনে আকস্মিক পরিদর্শনের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়; ওই পরিদর্শনের সময় কর্তৃপক্ষ হিসাববহির্ভূত নগদ অর্থ ও সন্দেহজনক ডিজিটাল লেনদেনের বিষয়টি উদঘাটন করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

"হঠাৎ পরিদর্শনের সময় একজন সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ২.৩৯ লক্ষ টাকার Google Pay (GPay) লেনদেনের বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি," - 'ইন্ডিয়া টুডে' নিউজ চ্যানেলে জানিয়েছেন জিসিসি (GCC)-র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ভিজিল্যান্স রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপ
তামিলনাড়ুর ‘ডিরেক্টরেট অফ ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন’ (DVAC)-এর কাছ থেকে একটি প্রতিবেদন পাওয়ার পরই গ্রেটার চেন্নাই কর্পোরেশন অভিযুক্তদের বরখাস্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরুর পদক্ষেপ নেয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্নীতি-বিরোধী আইনের আওতায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে। ৬ নম্বর জোনের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কোলাথুর, আয়ানাবরম ও পেরাম্বুর; অন্যদিকে ৯ নম্বর জোনটি সেন্ট্রাল চেন্নাইয়ের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে থাউজেন্ড লাইটস, মাইলাপুর ও নুঙ্গামবাক্কাম এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত।আরও বরখাস্তের সম্ভাবনা
ঘুষ, ভুয়া বিল তৈরি এবং অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার মতো পৃথক অভিযোগে জিসিসি (GCC)-র আরও ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।বিজয় সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আওতায় ক্ষমতাসীন দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও এসেছেন। এর আগে, ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য সম্বলিত একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর টিভিকে-র এক পঞ্চায়েত নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আনুষ্ঠানিক এফআইআর (FIR) দায়েরের আগেই দলটি তাঁকে বহিষ্কার করে; এর মাধ্যমে এটিই ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, দলীয় সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীর কাছে VB-G RAM G আইনের কিছু নিয়ম সংশোধন করার জন্য আবেদন জানালো মুখ্যমন্ত্রী বিজয়
সরকারি দপ্তরে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ জানানোর সুবিধার্থে সরকার ডিভিএসি (DVAC)-পরিচালিত একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইনও চালু করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগকারীরা তদন্তের জন্য সরাসরি ভিজিল্যান্স বা দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণ ও বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে পারেন।
0 মন্তব্যসমূহ