Why do children stand in front of the players during the national anthem:- খেলা শুরুর আগে শিশুদের সঙ্গে সারিবদ্ধভাবে হাত ধরে মাঠে প্রবেশ করেন খেলোয়াড়রা। জাতীয় সঙ্গীতের সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে দাঁড়িয়ে জাতীয় গাইতে দেখা যায় শিশুদের। কিন্তু কেন এমনটা করা হয়, এই শিশুদের কী বলা হয় তার উত্তর অজানা অনেকের। আপনার বাড়ির ছেলেটি কি এখানে অংশগ্রহন করতে পারে।
ফুটবল হোক কিংবা ক্রিকেট, খেলা শুরু হওয়ার আগে খেলোয়াড়রা একটি করে শিশুর হাত ধরে ড্রেসিং রুম থেকে মাঠে প্রবেশ করেন। এই নিয়ম প্রথমে শুরু হয়েছিল ফুটবল খেলায়। পরে ক্রিকেট সহ অন্যান্য খেলাতে এই নিয়ম শুরু হয়। জাতীয় সঙ্গীতের সময় খেলোয়াড়দের সামনে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
এইসব শিশুদের কী বলা হয়
জাতীয় সঙ্গীতের সময় যেসব শিশুরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকতে দেখা যায় তাদের নির্দিষ্টি কোনও নাম না থাকলেও অনেকে এদের ‘এসকট অথবা ম্যাসকট চিলড্রেন’ বলে থাকে।বেশিরভাগ সময় এই শিশুরা আসেন বিভিন্ন এনজিও ও অনাথ আশ্রম থেকে। যারা কিনা অনাথ, দরিদ্র অথবা নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এইভাবে ওই সংস্থাগুলির অর্থ সংস্থান হয় ও শিশুরাও প্রিয় তারকাকদের সান্নিধ্যে এসে জীবনে বড় হওয়ার অনুপ্রেরণা পান। পাশাপাশি জমকালে অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ হয়।
যেভাবে শুরু হয়েছিল
এই প্রথার সঠিক সূচনা কখন হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। তবে ধারণা করা হয়, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই এটি চালু ছিল। তবে এই প্রথা বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পায় ২০০২ সালের বিশ্বকাপের সময়। তখন ফুটবলের বিশ্ব সংস্থা ফিফা ও ইউনিসেফ যৌথভাবে ‘Say Yes to Children’ বা ‘শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলুন’ নামে একটি প্রচারণা চালায়। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার।এছাড়া শিশুদের মন স্বচ্ছ হয়, কোনও হিংসা থাকে না, সহজে বন্ধুত্ব করে নিতে পারে। তাই শান্তির বার্তা দিতে, প্লেয়াররাও যেন স্বচ্ছভাবে খেলাটি খেলে, প্রতিপক্ষকে বন্ধু মনে করে সেই কারণেও শিশুরা থাকেন বলে মনে করেন অনেকে। খেলার মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ভালো রাখতে হবে, তা বোঝানোর জন্যই জাতীয় সঙ্গীতের সময় শিশুদের সাথে করে আনা হয়।
কারা এখানে অংশগ্রণ করতে পারবে
২০১৪ সালে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সাধারণত ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্য থেকে তাদের নির্বাচন করা হয়।পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা অনেক সময় হাজার হাজার দর্শকের সামনে মাঠে নামতে ভয় পেতে পারে। আবার ১৭ বছরের বেশি বয়সীদের আর শিশু হিসেবে ধরা হয় না। তাই এই বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোনো ক্লাব কিংবা একাডেমি কোনো অনাথ আশ্রম থেকে এদের নির্বাচন করে। আপনার বাড়ির ছেলেটি এখানে অংশগ্রহন করতে পারে না, তবে অনেক ক্লাব কঠিন রোগে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়। তাদের প্রিয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে দেখা করার এবং মাঠে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। কারণ এই মুহূর্ত তাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকে।

0 মন্তব্যসমূহ