পরীক্ষায় টুকলি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল ছেলে। সেই ঘটনার জেরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে শিক্ষকদের মারধর ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠল এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টর মহেশ কান্দওয়ালকে সাসপেন্ড করেছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ। একই সঙ্গে বাবা ও ছেলে—দু’জনের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৪ জুন দেরাদুনের পিথুওয়ালার সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে।ফাইনাল ইয়ারের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার সময় টুকলি করতে গিয়ে ধরা পড়ে ছাত্র কবির কান্দওয়াল। অভিযোগ, পরীক্ষকরা তাকে আটকানোর পর নিজের দোষ স্বীকার না করে উল্টে শিক্ষকদের হু'মকি দেয় সে। এমনকি, তার বাবা একজন পুলিশ অফিসার বলেও দাবি করে।
অভিযোগ, ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৫ জুন কলেজে হাজির হন কবিরের বাবা মহেশ কান্দওয়াল। তিনি জোর করে পরীক্ষার কন্ট্রোল রুমে প্রবেশ করেন এবং কর্তব্যরত শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। শিক্ষকদের দাবি, সাব-ইন্সপেক্টর প্রথমে গা'লিগা'লাজ করেন, পরে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন এবং কয়েকজন শিক্ষককে মা'র'ধরও করেন।
গোটা ঘটনাটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেই ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে অভিযুক্ত পুলিশকর্মী। এরপরই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করে।
দেরাদুনের এসএসপি প্রমেন্দ্র সিং দোবাল জানিয়েছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগে মহেশ কান্দওয়ালকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে।
তবে এই ঘটনার অন্য দিকও সামনে এসেছে। অভিযুক্ত ছাত্র কবির কান্দওয়ালের দাবি, পরীক্ষাকেন্দ্রে ইচ্ছাকৃতভাবে টুকলি করার মতো পরিবেশ তৈরি করেছিলেন কিছু শিক্ষক। পরে তাকে ধরে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে এবং মা'র'ধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রের পাল্টা অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

0 মন্তব্যসমূহ