তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগদান করেছিলেন জোসেফ বিজয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের একাদশ বৈঠকটি আয়োজিত হয়। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় জানান, মেডিক্যাল শাখায় স্নাতকে ভর্তির জন্য নিট ইউজি-র প্রস্তুতিতে যত খরচ হয়, তা রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার, আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই এই রাজ্যের কোটায় এমবিবিএস, বিডিএস কিংবা আয়ুষ-এর মতো মেডিক্যাল শাখার বিষয়ে ভর্তির জন্য দ্বাদশের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। এতে পড়ুয়ারা উপকৃত হবেন।
‘ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট’ (NEET)-এর বিরোধিতা করে বিজয় বলেন যে, তামিলনাড়ু সরকার শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, “স্নাতক স্তরের চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা (Medical and Dental) কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে ‘নিট’ (NEET) ব্যবস্থার বিরোধিতা করছে রাজ্য সরকার; কারণ এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে গ্রামীণ ও আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, এমবিবিএস (MBBS), বিডিএস (BDS) এবং আয়ুষ (AYUSH) কোর্সে রাজ্যের কোটার আওতাধীন সমস্ত আসনে শুধুমাত্র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তির অনুমতি তামিলনাড়ু সরকারকে দেওয়া যেতে পারে।”
বিজয় ‘বিশ্বমানের স্টার্ট-আপ ইনকিউবেটর ও ডিপ-টেক বা গভীর প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এবং প্রায়োগিক গবেষণার জন্য বর্ধিত অর্থায়নের’ বিষয়েও কেন্দ্রের সহায়তা চেয়েছেন; পাশাপাশি তিনি রাজ্যের জন্য কেন্দ্রীয় সহায়তা অর্থ ছাড়ের দাবিও জানিয়েছেন।
জানা গেছে, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি দেশের ছয়টি প্রধান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র—দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ ও বেঙ্গালুরুর—উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ‘এম-৬ টাস্ক ফোর্স’ (M-6 Task Force) গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি ৬ লক্ষ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন, যার আওতায় এই শহরগুলোর শহুরে পরিকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য প্রতিটি শহরের জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকা করে বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে।
একটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, রেড্ডি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন। এতে তেলেঙ্গানার প্রবৃদ্ধি এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে ভারতের যাত্রাপথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কৌশলগত পরিকাঠামো, শিক্ষা, শিল্প ও যোগাযোগ-ব্যবস্থা সংক্রান্ত প্রকল্পের জন্য ভারত সরকারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ